• Call Now: 01719-631473

আপনার বাড়তি ওয়েট ৭টি খাবারে কমাতে পারেন

বর্তমানে ছোট-বড় সবাই কম বেশি সবাই স্বাস্থ্য সচেতন, আর সেই সচেতনতার রেশ ধরেই প্রত্যেকেই নিজেদের ওজন নিয়ন্ত্রণে ও কমাতে ব্যস্ত। অনেকে  সঠিক নিয়ম না জেনে শুনেই শুরু করে দেন না খেয়ে থাকা। আপনিও যদি সেই  দলভুক্ত হয়ে থাকেন তবে আপনার জন্য রয়েছে সুখবর। ওজন কমবে ঠিকই তবে তা  দিনের পর দিন না খেয়ে থেকে নয়। যারা বিভিন্ন ডায়েট ভিডিও দেখে দেখে না খেয়ে থাকছেন, তারা এবার একটু খেয়ে দেয়ে চেষ্টা করে দেখুন। আসুন জানে নেওয়া যাক এমন কিচু খাদ্য সম্পর্কে, যা খেয়ে আপনি কমাতে পারবেন আপনার স্বাস্থ্য।  

অভিজ্ঞ ডাক্তারদের মতে, আপনি যদি ওজন কমানোর জন্য দিনের পর দিন না খেয়ে থাকেন তাহলে আপনার শরীরের বিপাক ক্রিয়া কমে যাবে, যার ফলে আপনার দেহের ক্যালরি খরচ কমে যাবে, এক্ষেত্রে হিতে-বিপরীত হয়ে উল্টো আপনার ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে। অপরপক্ষে সঠিক খাদ্য গ্রহন করলে আমাদের শরীরের বিপাক ক্রিয়া বৃদ্ধি পায় এবং শরীর পরিণত হয় ফ্যাট বা চর্বি পোড়ানোর যন্ত্রে। তাই একেবারে না খেয়ে থাকার পরিবর্তে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন, তবে খেয়াল রাখতে হবে খাবার গুলো যাতে স্বাস্থ্যসম্মত হয়। এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক ওজন কমাতে সহায়ক সেই খাবারগুলো সম্পর্কে। 

১) পানি

বলা হয়ে থাকে পানির অপর নাম জীবন। পানিই হল একমাত্র খাদ্য উপাদান যা মানুষের শরীরে কোন রকম ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলে শরীরে পানির ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি,পানি শরীরের দূষিত উপাদানসমূহ বের করে দিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। সুতরাং পানির কোন বিকল্প নেই। পানি রক্তে গ্লুকোজের ভারসাম্যকে বজায় রেখে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। 

২ ) সরিষার তেল

সুপ্রাচীন কাল থেকেই আমাদের দেশ রান্নার কাজে সরিষার তেল ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অন্যান্য ভোজ্য তেলের তুলনায় এতে চর্বির পরিমান অনেক কম। এটি আমাদের শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমতেবাধা দেয় ও ওজন কমাতে সাহায্য করে থাকে। এছাড়া সরিষার টেলি থাকা মনোস্যাচুরেটেড ও পলিস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিডের সঠিক অনুপাত হৃদরোগ, ডায়েবেটিস ও কিডনী রোগকেও দূরে রখতে সাহায্য করে। তাই রান্নার কাজে  সরিষার তেলের ব্যবহার আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।

৩) সবুজ চা/গ্রিন টি

সবুজ চা অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের একটি বড় উৎস। হজমের শক্তি বাড়াতে এবং দেহে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি পোড়াতে এর জুড়ি নেই। প্রতিদিন অন্তত ২ কাপ সবুজ চা আপনার খাবার তালিকায় যুক্ত করুন। এটি রক্তের LDL এর পরিমাণ কমিয়ে দেহের  ওজন কমাতে সাহায্য করে। LDL হচ্ছে একধরণের ক্ষতিকর কোলস্টেরল, যা রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত করে দেহের ক্ষতি সাধন করে।

৪) টক দই

টক দইয়ে আছে লাইকো প্রোটিন এবং ক্যালসিয়াম, যা আমাদের দেহের চর্বি পোড়াতে দ্রুত সাহায্য করে। এছাড়া টক দই চিনিবিহীন এবং এতে অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট এতে জমা থাকে না বলে এটি ওজন কমিয়ে থাকে। আর এর ব্যাকটেরিয়াসমুহ দেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী, যা পরিপাকতন্ত্রের কাজে সাহায্য করে।

৫) আপেল

আপেল আঁশ জাতীয় ফল বলে হজম হয় দ্রুত কিন্তু এতে থাকা পেকটিন নামক এনজাইম অনেক সময় ধরে ক্ষুধাহীন অনুভূতি দেয় যাতে খাওয়া ও হয় কম। আপেলে এমন একটি ফল যাতে রয়েছে প্রচুর পুষ্টি, কিন্তু সেই তুলনায় এতে ক্যালরীর পরিমান অনেক কম। তাই রোজ অন্তত একটি করে হলেও আপেল খাওয়ার চেষ্টা কমাতে পারে আপনার বাড়তি ওজন।

৬) লেবু

লেবুর রসে রয়ছে দেহের অম্লতা দূর করার এক আশ্চর্য ক্ষমতা। এটি দেহের মেটাবোলিজম বাড়িয়ে অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে আনে সহজেই।

৭) কলা

কলা হচ্ছে ক্যলসিয়াম ও সেরোটিনের একটি উন্নত উৎস। কলার ক্যলসিয়াম ও আঁশ দ্রুত ক্ষুধা নিবারণ করে আর সেরোটিন দেহ ও মন চাঙ্গা করে নিমেষেই।  মোটকথা কলা ওজন কমাতে রাখে অদ্বিতীয় ভূমিকা।

তো আমরা জানলাম ওজন কমানোর কিছু খাদ্য সম্পর্কে। নিয়ম মেনে চলুন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস তৈরী করুন, ভালো থাকুন, সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপন করুন।